পেকুয়া প্রতিনিধি;

চট্টগ্রাম দক্ষিণ বন বিভাগের বারবাকিয়া রেঞ্জের আওতাধীন টইটং বিটে সামাজিক বনায়ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন ও তদারকি জোরদার করতে উপকারভোগীদের নিয়ে এক উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) সকাল ১০টায় ২০১৮ সালের সামাজিক বনায়ন কর্মসূচির আওতাভুক্ত সদস্যদের অংশগ্রহণে বিট অফিস সংলগ্ন এলাকায় এ বৈঠকের আয়োজন করা হয়।

বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন টইটং বিট কর্মকর্তা মোতালেব আল মুমিন। এতে বন বিভাগের অন্যান্য কর্মকর্তা, স্থানীয় সামাজিক বনায়ন কমিটির নেতৃবৃন্দ এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার উপকারভোগীরা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় সামাজিক বনায়নের আওতায় রোপিত বৃক্ষের সঠিক পরিচর্যা, রোগবালাই প্রতিরোধ, অবৈধভাবে গাছ কর্তন রোধ এবং বনসম্পদ সংরক্ষণে স্থানীয় জনগণের ভূমিকা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। পাশাপাশি ভবিষ্যতে গাছ বিক্রয় ও লভ্যাংশ বণ্টন প্রক্রিয়া, উপকারভোগীদের অধিকার ও দায়িত্ব সম্পর্কেও দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়।

অংশগ্রহণকারীরা জানান, সামাজিক বনায়ন প্রকল্পের মাধ্যমে তারা যেমন পরিবেশ রক্ষায় ভূমিকা রাখছেন, তেমনি অর্থনৈতিকভাবেও উপকৃত হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে। তবে অনেক ক্ষেত্রে নিয়মিত তদারকি, প্রশিক্ষণ এবং প্রযুক্তিগত সহায়তার অভাব রয়েছে বলেও তারা উল্লেখ করেন।

বিট কর্মকর্তা মোতালেব আল মুমিন বলেন, “সামাজিক বনায়নের সফলতা অনেকাংশে নির্ভর করে উপকারভোগীদের সচেতনতা ও অংশগ্রহণের ওপর। গাছ লাগানোই শেষ কথা নয়, বরং সঠিক পরিচর্যা ও সংরক্ষণ নিশ্চিত করতে হবে।” তিনি আরও বলেন, বন বিভাগ উপকারভোগীদের সঙ্গে সমন্বয় রেখে কাজ করছে এবং ভবিষ্যতেও নিয়মিত এ ধরনের উঠান বৈঠকের মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করা হবে।

সামাজিক বনায়ন কমিটির সভাপতি মোসলেম উদ্দিন বলেন, “এই কর্মসূচি শুধু বনজ সম্পদ বৃদ্ধিতেই নয়, স্থানীয় মানুষের কর্মসংস্থান ও আয় বৃদ্ধিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।” তিনি প্রকল্পের স্বচ্ছতা ও নিয়মিত তদারকি নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

উপকারভোগীরা এ ধরনের অংশগ্রহণমূলক উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে নিয়মিত উঠান বৈঠক আয়োজন, প্রশিক্ষণ বৃদ্ধি এবং সময়মতো প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদানের দাবি জানান।

উল্লেখ্য, সামাজিক বনায়ন কর্মসূচির মাধ্যমে সরকারের উদ্যোগে দেশের বিভিন্ন এলাকায় বৃক্ষরোপণ, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং স্থানীয় জনগণের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন সাধনের লক্ষ্যে দীর্ঘদিন ধরে কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।